ডিমলায় ৫৫২ তালবীজ রোপণ, উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি

‘গাছ লাগিয়ে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলায় ৫৫২টি তালবীজ রোপণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচিতে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, ডিমলার উদ্যোগে ডালিয়া-ডিমলা সড়কের পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়কের দুই পাশে একযোগে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়। জেলা কমান্ড্যান্টের নির্দেশনায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

এতে উপজেলা প্রশিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ও উপজেলা প্রশিক্ষিকা মোছা. নুরতাজ খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের তত্ত্বাবধানে ৮০ জন ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্য তালবীজ রোপণে অংশ নেন। স্থানীয় নারী ও পুরুষ আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকাবাসীও স্বেচ্ছায় কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন এবং উপজেলা প্রশিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান তালগাছের পরিবেশগত গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোপণ করা তালবীজের নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।

আনসার-ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোপণের আগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিপক্ক মাতৃগাছের সতেজ ও নিরোগ তালবীজ সংগ্রহ করা হয়। পরে বীজগুলো দুই সপ্তাহ ছায়াযুক্ত স্থানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় পানিতে ওষুধ মিশিয়ে বীজগুলো ছত্রাকমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দুই সপ্তাহ সংরক্ষণের পর নির্দিষ্ট নিয়মে প্রায় ৩ মিটার পরপর ৩০×৩০×৩০ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত তৈরি করে তালবীজগুলো রোপণ করা হয়। রোপণের পর হালকা সেচ দেওয়া হয় এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে কচুরিপানা দিয়ে মালচিং করা হয়।

স্থানীয়রা বলেন, সড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে তালবীজ রোপণের উদ্যোগটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। আনসার-ভিডিপির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তাঁরা।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *