সৈয়দপুরে চলছে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিচারকের মান নিয়ে প্রশ্ন

সৈয়দপুরে চলছে দুইদিনব্যাপী নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুই দিন ব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে প্রতিযোগিরা। তবে প্রথমদিনের আবৃত্তি, একক অভিনয় ও নজরুল সঙ্গীতের বিচারকদের নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের। ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে তৈরী হয়েছে শঙ্কা।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সানফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সারাদিন এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয়, গজল, হামদ-নাত, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে উপজেলার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী।

তবে, উপজেলা পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সরজমিনে সানফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিযোগিতার পরিবেশ অনুকুল নয়। হট্টগোলের মধ্যেই নেয়া হচ্ছে আবৃত্তি। প্রতিযোগীদের একপাশে দাঁড় করিয়ে কবিতা শুনছেন বিচারকরা। সেখানে প্রতিযোগীদের অভিব্যক্তি (এক্সপ্রেশন) দেখার সুযোগ খুব কম। একই অবস্থা একক অভিনয়েও। প্রতিযোগীদের অভিনয় করা জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ এসেছে বিচারকদের নিয়ে। বিশেষ করে অভিনয় ও আবৃত্তির বিচারকদের মান নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। শঙ্কা তৈরী হয়েছে মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ার।

উপজেলা সাংস্কৃতিক কর্মী ও অভিভাবক, শাওন জামান অভিযোগ করেন, “আবৃত্তির যারা বিচারক আছেন তাদের নিজেদেরই আবৃত্তি সঠিক হয় না। এছাড়া অভিনয়ের বিচারকরা নাটক সম্পর্কে কতটুকু জানেন সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

আরেকজন অভিভাবক সাধনা বলেন, “আমি তো আমার বাচ্চাকে বলেছি শুধু অংশগ্রহন করতে। মূল্যায়ন হবে কি না সেটা বলতে পারছি না। কারণ বিচারকদের নিয়ে নানা কথা হচ্ছে।

সৈয়দপুর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অপু বিশ্বাস বলেন, “অভিনয়ের বিচারকদের মধ্যে একজন আছে যাকে আমি কোনদিন সেভাবে নাটক করতে দেখিনি। নজরুল সঙ্গীতের বিচারক একজন নৃত্য শিল্পী। সৈয়দপুরে কি ক্লাসিকাল সঙ্গীত জানা মানুষের অভাব পড়েছে? তাহলে সঠিক মূল্যায়ন হবে কিভাবে?

অভিনয়ের বিচারকদের সম্পর্কে এই প্রতিবেদক জানতে চেয়েছিল সৈয়দপুরের প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব মীর সারোয়ার আলী মুকুলের কাছে। তিনি বলেন, “আপনি যাদের নাম বললেন সবাইকেই আমি চিনি। কিন্তু তারা কি নাটক সম্পর্কে কোন কর্মশালা করেছে কোনদিন? তাদের কি কোন সার্টিফিকেট আছে? তারা কি নাটক সম্পর্কে কিছু জানে? উপজেলা প্রশাসন কিভাবে তাদের সিলেক্ট করলো আমি জানি না। তবে তাদের প্রতিযোগিতায় বিচারক হওয়ার মতো যোগ্যতা নাই”।

অবশ্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ নতুন নয়। মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অধীনে কিশোর কিশোরী ক্লাবের আবৃত্তি ও গানের শিক্ষকগণ কোনদিন এরকম প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পান না। এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাধ্যমিক বা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কোনদিনই তাদের কাছে পরামর্শ নেয় না।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, স্বচ্ছতার জন্য তারা বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারক নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু বিচারকদের যোগ্যতা বা মানের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। বলেছেন, মেধার মূল্যায়ন হবে ইনশাল্লাহ।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিচারকের বিষয়টা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেখেন। তিনি শিক্ষকদের চেনেন বলেই হয়তো তাদেরকে আমন্ত্রণ জানান। তবে, আরো ভাল যদি আমরা কাউকে পাই তবে তাদেরকে বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ জানাব। এই বিষয়টা আমি দেখছি”।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *