নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস পালিত

সাপে কাটার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রচলিত ক্ষতিকর চিকিৎসাপদ্ধতি পরিহারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরে হাসপাতালের সভাকক্ষে সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক (ইনসিটু) ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক (শিশু) ডা. মো. শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো. আব্দুল মতিন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সর্পদংশন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপের দংশনের ঘটনা বেশি ঘটে। যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে সর্পদংশনে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু কিংবা গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সাপে কাটার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকরা বলেন, সাপে কাটার পর আক্রান্ত স্থানে শক্ত করে বাঁধন দেওয়া, কাটা-ছেঁড়া করা, বিষ চুষে নেওয়া কিংবা ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার মতো প্রচলিত ক্ষতিকর পদ্ধতি পরিহার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযথা সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সর্পদংশন প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রাতে চলাচলের সময় টর্চ বা আলো ব্যবহার করা এবং জুতা-স্যান্ডেল পরার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাপের আবাসস্থল সম্পর্কে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সর্পদংশন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে সর্পদংশনজনিত মৃত্যু ও জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *