আশ্বিনের বৃষ্টিতে নীলফামারীতে আমন চাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় আমন খেতে পানির সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে বৃষ্টি টানা হলে সদ্য রোপণ করা বীজ আলু ও শাকসবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
নীলফামারী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে সেই সংকট অনেকটাই কেটেছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। ফলে অসময়ের বৃষ্টির পানি জমিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে বীজ আলু পচে যাওয়ার পাশাপাশি সবজিরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আগাম আলুচাষি হামিদার রহমান বলেন, এবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করবেন। এর মধ্যে ৩ বিঘা জমিতে ইতোমধ্যে রোপণ করেছেন। এমন বৃষ্টি টানা দু-তিন দিন হলে সমস্যা হবে। অল্প সময়ের মধ্যে বৃষ্টি থেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজ আলু পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, আশ্বিনের এই বৃষ্টি আমন ধানের জন্য উপকারী। তবে আগাম আলু ও শাকসবজির জন্য এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে চাষাবাদ দুই-তিন দিন পিছিয়ে যেতে পারে। রাতে বা শুক্রবারও বৃষ্টি হলে যারা ইতোমধ্যে আলুর বীজ রোপণ করেছেন, তাদের বীজ ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি দ্রুত কমে যেতে পারে, আবার তিন থেকে চার দিনও স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নীলফামারীতে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
