এবার টাকা এনে ঘরটা নতুন করে ঠিক করব’ ঢাকায় যাওয়ার আগে মাকে এমন কথাই বলেছিলেন মেহেদী হাসান মিম (২৪)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ঢাকার বারিধারায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে বুধবার লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর মা মিনু বেগম (৫৬) ।
মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের এরশাদুল হকের ছেলে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার বারিধারা এলাকার কে-ব্লকের ১ নম্বর রোডে ১৩ নম্বর বাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য, ওই দিন আসরের নামাজ শেষে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মেহেদীর মা মিনু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল, এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম।
মেহেদীর মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় (৩৪) বলেন, মেহেদী বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি শুনতেও ও কথাও বলতে পারতেন না। ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বয়স হয়ে যাওয়ায় দিনমজুর বাবার পক্ষে আগের মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিলেন মেহেদী।
স্বজনরা জানান, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন মেহেদী। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। সেখানে বিভিন্ন ছোটখাটো ব্যবসার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন। প্রতি মাসে নিজের উপার্জন থেকে বাবা-মাকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতেন।
মেহেদীদের পরিবারে দুই ভাই ও এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির আলাদা সংসার করেন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাই বাবা-মাকে নিয়ে মেহেদীর সংসার চলছিল। পরিবারের কোনো আবাদি জমি নেই বসতভিটাটুকুই তাদের সম্বল।
মামাতো ভাই জয় আরও বলেন, মেহেদী শুধু শ্রমিকের কাজই করতেন না, বিভিন্ন ধরনের শৈল্পিক কাজেও দক্ষ ছিলেন। কাগজ দিয়ে ফুলসহ নানা ধরনের জিনিস তৈরি করতে পারতেন। আর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেদীর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে দুপুর ৩টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
